করোনাকাব্য ৯
অজস্র
মন খারাপের কারণ
ভালোর বারণ
বিলাপের চারণ
চারপাশে।
সহস্র
রণ ধারণের চরণ
কালোর মরণ
গড়নের বরণ
আলঘেঁষে।
করোনাকাব্য ১০
কবিতা-জীবন পাশে থুয়ে শুয়ে থাকি;
ঘুমাইনি। তোমাকে দেখার ছল বাকি
কতটা সহায় তুমি? জান কবিতাই
আমার ঘর, আর জীবন পুরোটাই
বুঝতে গিয়ে ব্রহ্মা-ে করি কলরব,
কাঁপা কাঁপা দানে নিগূঢ় মননে ভব।
একদিন সব সাঙ্গ হবে হুতাসন
তখনো কবিতা কিংবা রবে জীবন।
শুয়ে থাকা বা ঘুমানো কী আর এমন
করতে পারি? কতটুকু সামর্থবান
মানুষ-প্রাণ, শুরু-শেষের খেলা; ভাঙে
বেলা। যাত্রা হয় অচিনপুরেই, গাঙে
ছলাৎ ছলাৎ ধ্বনি, মাটির ওলট-
পালট, মনে-রণনে স্মৃতির মলাট।
জীবনবিভ্রম
বাতাস বইছে। নদীর জলে মৃদু কাঁপন। সময় জীবনের সংসারে। নাগরিক চাকা যাযাবর। ফেনিল সাগর হাহাকার তুলছে। বুঝতে চায়ছে জীবনের যাপন। এরই মাঝে প্রমত্তা পদ্মার বুকে গৃহবধূর গুমোট গুঞ্জন। সবুজের চাদরে শুয়ে পড়ছে নারী। মানুষ হচ্ছে গবেষণা। ক্ষুধার অন্ন কেড়ে উপোস বসে যুবরাজ। অদ্ভুত পাওয়ায় কাঁদছে বিশ্ব মাতবর। জীবন বিষিয়ে উঠছে ক্ষমতার ললাটে। লাহুরের জল তিতাসে এসে ফিসফিস করে জলের কান্না কি বুঝে সলিম আলী? ফসলের হিসাব কি সে কষতে পারে? এরই মাঝে পিঠে-কাধে-মগজে ঘুণ নিয়ে বোমা বাধছে আলেকজান্ডার। আচমকা ঢুকে পড়ছে কোমল প্রাণে। তাকে কে যেন দিয়েছে স্বর্গের ঠিকানা! নাগরিক চাকা ঘর্ষণের শব্দ ইথারে রেখে মারাচ্ছে পথ। ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে। সভ্যতার ছায়ায় ধনীর তালিকা। জীবন পাতা ভরে যাচ্ছে সাফল্যের সূত্রে। কে কত দৌঁড়াতে পারে, মাহাত্ম! ভোগের কূটচালে সকরুণ প্রহসন। কে যেন কানে কানে বলে কী লাভ? সময় কী ধরতে পার? চুলের রেখায় পড়তে পার শিশুকাল? বন-বাদাড় ডাকে কি তীব্র বানে? কাঁসার ঘণ্টা কিংবা বাঁশির টানে কি উৎলা হও এখন আর? মায়ার চাষে কেমন ফসল আসে ইদানীং? নাকি সব শেষ? এরই মাঝে রমনার অশোক ফুটিয়ে রাখে ফুল। শাহবাগে বসে থাকে অজানা পাগলি। রাতের অন্ধকার ভেদ করে পার হয় পাঁচটনি ট্রাক। নাগরিক চাকা নিয়ে চলে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে। গোগ্রাসে গিলছে শহর। ফুটপাথে স্বপ্নের চক্র। এরই মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ছে ব্রহ্মাণ্ডে। ক্রমশ খুঁজে ফিরছে জীবন-মানুষ-সময়-জলধারা। কেউ ঢালছে বিষ, কেউবা মায়া। তারপরও রাত নামে, দিন জাগে। পাতায় পাতায় ভরে উঠে দেশ। আমি-তুমি-সে একই শহরে। বাহুমূলে-চিবুকে-গ্রীবায় মায়া দেখায় কেউ কেউ! তীব্র ডাক ছাড়ে মোহন বাঁশিতে। ক্রমশ তলিয়ে নিয়ে চলে তলদেশে। বলে এরই নাম জীবন। জন্মের প্রথম চিৎকারের মতো বলতে ইচ্ছা হয় জীবন একটা ছায়ারেখা-সীমারেখা। অতল জলে স্বপ্নে ফেরা। তবুও বয়ে চলে লোহিৎ জলরেখা। তার মাঝেই চাঁদ দিয়ে যায় মোহন মায়ারেখা। তবুও সে জীবনের হাতে হাত রেখে অতলের তল দেখায়। ক্রমশ বলে উঠি ডুবে যাচ্ছি, কী আশ্চর্য তোমার সীমারেখা? সবকিছু অন্ধকার আর আলোর ভেদরেখায় মায়ার বিভ্রমে! তবুও জীবন ও সে দেখায় না কিছুই। নীলপদ্ধময় রেণু ছড়ায়। তবুও আশা নিয়ে বসে থাকি। কে যেন বলেছিল একদিন মরে যাব। সেও বলেছিল একদিন তোমার হব। ঠিক জীবন যেমন বলেছিল ঠিকই তোর হব। পৃথিবীর সব কাব্য তোর জন্য, তোর জীবনে। সবকিছু ভালোবাসা বুঝে নিয়ে মায়া খুঁজি। মায়া দূর সীমারেখায় দাঁড়িয়ে ব্যাঙ্গ করে জীবন একটা মহাকাব্য। মায়ার আদলে তুমি, জীবন, বিভ্রম। আমি মহাকবি। মহাকাব্যময় জীবনে ঘর করে আকণ্ঠ নীল! তবুও সময় জীবন ও তোমাকে ধরতে চাই। ঘর করতে চাই। করিও!
প্রিয়তমেষু
পাপড়ি জল ধরে আছে
যেন জলজ মায়া,
তীব্র কুহক বলছে
এ চোখ নয়, এ গোলাপ।
পাপড়ি রেণু ধরে আছে
যেন ফলজ ছায়া,
তীব্র ক্ষরণ বলছে
এ ফুল নয়, এ জীবন।
সীমাবদ্ধতা
কাব্যচয়ন
কথোপকথন,
সৃষ্টিচয়ন
কথোপকথন,
সব বপন
আমরা চারণ।
রাধো রাধা
রীতি বাঁধা।
শিল্পসুখ
তীর ছুড়
রক্ত লাগিয়ে দেই,
কথা ছিল অন্যরকম
ভাবের রকমফের।
তীর রক্ত কথা ভাব
মিলেমিশে শিল্প
শিল্পসুখ।